'ককরোচ জনতা পার্টি'র পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র দিল্লি.....

 


মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ থেকে অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করেছে। বিনা অনুমতিতে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়েছে।

একই সময়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। ফলে সোমবার দিনভর দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে উত্তাল।

দিল্লির সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে পুলিশ এই পদযাত্রার অনুমতি বাতিল করে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। তবে তা উপেক্ষা করেই সকাল থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন।

যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। একাধিক স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থসহ দিল্লির অন্তত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের অভিযোগ

যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন সেন্ট্রাল দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, তারা ফোনে সরকারি নির্দেশনায় ইন্টারনেট বন্ধ থাকার নোটিফিকেশন পেয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সমাবেশস্থলে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার ব্যবহার করা হচ্ছে। সিজেপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের কারণে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং লাইভ আপডেট দিতে সমস্যায় পড়েছেন।

পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরুরি বার্তা দিয়ে কর্মীদের শান্ত ও অহিংস থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো সংসদ চত্বর ও মধ্য দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post