টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোটা সংস্কার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্ময়ককে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। গুরুতর অবস্থায় তিন জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১৫ আগস্ট দুপুরে মির্জাপুর উপজেলা সদরের থানা সংলগ্ন শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন কলেজের ভেতরে মাঠে অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সীমন্ত ও কর্মী আপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে ওই তিনজন আহত হন। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। মোজাহিদুল ইসলামের ঘাড়ে দায়ের কোপে গভীর ক্ষত হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। আহত সমন্বয়কেরা হলেন মোজাহিদুল ইসলাম (১৮), ইমন সিদ্দিকী (২৩) ও জাকির হোসেন (২৪)। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর আপন মিয়া নামের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি উপজেলা সদরের পোস্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিক লীগের কর্মী মাহফুজ হোসেনের ছেলে।
এ সময় শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যগন শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিয়ে যাচ্ছেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, ছাত্রলীগের নেতা সিমান্তের নেতৃত্বে হামলা সংঘঠিত হয়েছে। পুলিশ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মির্জাপুরের অন্যতম সমন্বয়ক সাজেদুল ইসলাম নিঝুম জানান, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নামে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।