আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণা
No commentsSaturday, May 10, 2025
May 10, 2025সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, মোট আসন ৫০৫
No commentsTuesday, January 14, 2025
January 14, 2025
জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তাঁরা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি।
সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র ঠেকাতে বা এক ব্যক্তির হাতে যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে না যায়, সে জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু সুপারিশ করবে এই কমিশন। পাশাপাশি বিদ্যমান সংবিধানের মূলনীতিতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে শেষ মুহূর্তের কাজ করছে। আগামীকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সংস্কার কমিশনগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করবে। এ লক্ষ্যে তাদের প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ থাকবে, সেগুলো মূলত দুই ধরনের হবে। কিছু হবে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য, আর কিছু দীর্ঘমেয়াদি। তবে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এখন সংসদ নেই। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সংসদ গঠন না করা পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার করার সুযোগ নেই।
কমিশনগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি মাসেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে। সংস্কার প্রস্তাব এবং এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য হলে সংলাপ থেকে একটি রূপরেখা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দ্বিকক্ষ সংসদ যেমন হবে:
স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের পার্লামেন্ট তথা জাতীয় সংসদ এক কক্ষের। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে মোট আসন ৩৫০টি। ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সাধারণ নির্বাচনে পাওয়া আসনের অনুপাতে নারী আসনগুলো বণ্টন করা হয়।
সংস্কার কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের ৪০০টি আসনে নির্বাচন হবে বিদ্যমান পদ্ধতিতে। আর উচ্চকক্ষে মোট ১০৫ আসনের ৫টি থাকবে রাষ্ট্রপতির হাতে। তিনি এই পাঁচ আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেবেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির হাতে পাঁচটি আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
উচ্চকক্ষের বাকি ১০০টি আসনে নির্বাচন হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দলগুলো নির্বাচনে সারা দেশে যত ভোট পাবে তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে। দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাতে বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব রাখে, সেটাও উল্লেখ থাকবে।
বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন থেকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের কথা বলে আসছে। বিএনপি লিখিতভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনকে যে ৬২ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের কথা বলেছে। জাতীয় নাগরিক কমিটিও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মতবিনিময়েও অংশীজনদের অনেকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রস্তাব দেন।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও সংসদের নিম্নকক্ষে বিদ্যমান পদ্ধতিতে ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একনায়কতন্ত্র ঠেকানো অন্যতম লক্ষ্য:
সংবিধান সংস্কার কমিশন সূত্র জানায়, তাদের যেসব সুপারিশ থাকবে, তার অন্যতম লক্ষ্য হবে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা এবং সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র ঠেকানো। এ জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ না থাকে। এ লক্ষ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করা; একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কয়টি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া; প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা যাতে না হন, এমন বিধান; নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা; নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান; প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা; নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
এ ছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশও করা হচ্ছে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’—এই তিনটিকে সংবিধানের মূলনীতি করার সুপারিশ করবে কমিশন। এই তিনটির পাশাপাশি আরও দুটি মূলনীতিও যোগ করা হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কমিশন আগামীকাল প্রতিবেদন জমা দেবে। এত দিন ক্ষমতা এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল। তাঁরা এমনভাবে সুপারিশ করছেন, যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এ জন্য নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে মিঠুন চক্রবর্তী, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি
No commentsSunday, December 22, 2024
December 22, 2024
‘ভারতকে খাটো করে দেখবেন না’- বাংলাদেশ ইস্যুতে এমনিভাবেই ফোঁস করে উঠলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্টের বিষয়ে নিজের হতাশাও ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেতা ও রাজনীতিক।
পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন মহাগুরু। শনিবার হুগলির পাণ্ডুয়ায় বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সেখানেই বাংলাদেশ ইস্যুতে মুখ খুললেন তিনি।
মিঠুন চক্রবর্তী বললেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের একটা আবেগ, অনুভূতি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অনেকেরই মনে হয় এই মনোভাবগুলো আছে। কিন্তু বাংলাদেশ এরকম হয়ে যাবে, সেটা হয়তো আমরা কোনোদিন ভাবিনি। আবেগের জায়গা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাই স্বভাবতই খুব কষ্ট পেয়েছি’।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, হিন্দুদের ওপর কথিত অত্যাচার এবং ‘ভারত বিদ্বেষ’ ইস্যু নিয়ে মিঠুন বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে যেসব কথাবার্তা শুনছি, টিভিতে দেখছি... ওদের নেতারা যা পারছে বলে যাচ্ছেন। আমি একটা কথাই বলব, ভারতকে খাটো করে দেখবেন না’।
হাসনাত ও সারজিসকে ট্রাকচাপায় হত্যার চেষ্টা
No commentsWednesday, November 27, 2024
November 27, 2024
দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারে শামীম ওসমানের দেখা মিললো
No commentsFriday, September 6, 2024
September 06, 2024
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরপর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালী নেতারা। তেমনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানকেও দেখা যাচ্ছিল না।
এরই মধ্যে দেখা পাওয়া গেল শামীম ওসমানের। তিনি দেশে নন, ভারতের দিল্লিতে আছেন। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে দিল্লির নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাজারে দেখা গেছে।
ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আকাশ হক তাকে মাজারে দেখেছেন। রাত ৯টা ৫ মিনিটে শামীম ওসমানের ছবিও তুলেছেন ওই শিক্ষার্থী।
শামীম ওসমানের সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। তিনি বলেন, প্রমাণস্বরুপ তিনি ছবিও তুলে রেখেছেন।
নিক্কেই এশিয়া -- বাংলাদেশের 'আয়রন লেডি' শেখ হাসিনার পতন!
No commentsMonday, August 26, 2024
August 26, 2024নিক্কেই এশিয়া --
জনতা খালি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ভিড় করে, "নাগরিক বিপ্লবের" বিজয়ে আনন্দে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহিলা সরকার প্রধান হিসাবে হাসিনার 15 বছরের রাজত্বের আকস্মিক সমাপ্তি চিহ্নিত করে।
বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং রয়টার্স সহ অন্যান্য মিডিয়া আউটলেটের রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসিনার অফিসে থাকার শেষ 24 ঘন্টার সময়টা আবার দেখার মতো।
4 আগস্ট সন্ধ্যা 6 টায়, হাসিনা ক্রমবর্ধমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে একটি অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেন। সেই রাতে, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে একটি অনলাইন সভা আহ্বান করেন এবং তাদের নির্দেশ দেন যে কারফিউ অমান্য করে এবং রাস্তায় নেমে আসা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি না চালানোর জন্য। সেনাপ্রধান তখন প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে রিপোর্ট করেন যে তার সৈন্যরা রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কার্যকর করতে পারেনি।
৫ আগস্ট সকাল নাগাদ হাসিনাকে কড়া পাহারায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে লুকিয়ে রাখা হয়। বিক্ষোভ দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হাসিনাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হতাশাগ্রস্ত হয়ে, সিনিয়র কর্মকর্তা হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিরলস প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে রাজি করতে বলেছিলেন, কোন লাভ হয়নি। হাসিনার ছেলে, সজীব ওয়াজেদ জয়, একজন ব্যবসায়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সরকারের উপদেষ্টা, তাকে ফোন করেছিলেন এবং তিনি অবশেষে বিদায় নেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, তিনি দ্রুত ভারতে প্রবেশের জন্য অস্থায়ী অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন।
হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সহযোগীরা তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছিল। তারা অনুমান করেছিল যে ভিড় 45 মিনিটের মধ্যে পৌঁছাবে। তিনি এবং রেহানা সরকারী বাসভবনের কাছে একটি পুরানো বিমানবন্দরে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে, পদত্যাগ সম্পূর্ণ করতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের বাসভবনে অবতরণ করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর, জেনারেল জামান একটি টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ঘোষণা করেন যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন।
ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা, যিনি শেষ অবধি ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, তিনি একটি অস্থির জীবনযাপন করেছেন।
হাসিনা ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং 1971 সালে পাকিস্তান থেকে দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের একজন নায়ক, চার বছর পরে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। হাসিনার মা ও ১০ বছর বয়সী ভাইসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করা হয়। হাসিনা ও রেহানা ওই সময় পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় গণহত্যা থেকে রক্ষা পান। তারা বহু বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন।
1981 সালে, হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং তার পিতার প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ (AL) এর সভাপতি হন। 1990 সালে দেশের গণতন্ত্রীকরণের পর, তিনি 1991 সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন।
কিন্তু আওয়ামী লীগ অপ্রত্যাশিতভাবে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কাছে হেরে যায়।
1996 সালের নির্বাচনে হাসিনা জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু দুটি প্রধান দল সরকারে বিকল্পধারা অব্যাহত রাখে। যাইহোক, 2009 সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর, হাসিনা ক্ষমতা সংহত করেন, বিরোধী দলকে দমন করেন এবং তার শাসনকে দীর্ঘায়িত করেন।
সরকারি চাকরির জন্য বিতর্কিত কোটা পদ্ধতির কারণে বাংলাদেশের "আয়রন লেডি" এর চমকপ্রদ পতন ঘটে। বাংলাদেশ, দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অনুন্নত অঞ্চলের লোকদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি; 30% দাগ 1971 সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে "মুক্তিযোদ্ধাদের" সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছে গিয়েছিল।
যদিও দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উপভোগ করেছে, পোশাক তৈরির মতো শ্রমঘন শিল্পের নেতৃত্বে, উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব ব্যাপক। কোটা ব্যবস্থাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।
ছয় বছর আগেও প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। হাসিনা রাজি হন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত সেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু চলতি বছরের ৫ জুন কোটা প্রথা বিলুপ্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট নীতিগত সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহাল করেন। আদালতের রায়ে আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়।
সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল, কিন্তু ছাত্ররা তাদের ক্ষোভকে সরকারের উপর কেন্দ্রীভূত করেছিল, বিশ্বাস করে যে এই রায় রাজনৈতিক চাপের ফলে হয়েছে। হাসিনা দাবি করেন যে বিএনপির মতো বিরোধী দল পর্দার আড়ালে ছাত্রদের কারসাজি করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্র্যাক ডাউন করার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হাসিনা বিক্ষোভকারীদের "রাজাকারদের পরিবার" বলে অভিহিত করেন, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সহযোগিতাকারী লোকদের উল্লেখ করে।
সহিংসতা চাকরি নিয়ে যে প্রতিবাদ ছিল তা সরকারকে উৎখাত করার আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে। ২১শে জুলাই সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরির বেশিরভাগ কোটা বাতিল করে দেয়, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। 16 অগাস্ট প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার পতনের পর ছাত্র বিক্ষোভ এবং পরবর্তী অশান্তিতে প্রায় 650 জন মারা গেছে।
হাসিনা বিক্ষোভে তার নৃশংস প্রতিক্রিয়ার জন্য মূল্য পরিশোধ করেছেন। এটি এমন একজন মহিলার জন্য একটি আশ্চর্যজনক পালা, যিনি 43 বছর আগে, স্বাধীনতার নায়কের কন্যা হিসাবে আনন্দের সাথে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এখন তিনি নিজেকে আবার প্রবাসে খুঁজে পান।
বড় প্রশ্ন হল হাসিনা, যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দিকে অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হয়েছিল, তিনি কেন একজন নির্মম স্বৈরাচারী শাসক হয়ে উঠলেন।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপিং ইকোনমিসের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা স্মরণ করে বলেন, "হাসিনা 1996 সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় আমাকে একজন কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিবিদ হিসাবে আঘাত করেননি।" তিনি উল্লেখ করেন যে হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুই বছর পর 2009 সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর কর্তৃত্ববাদের প্রতি ঝোঁক দেখাতে শুরু করেন।
বিরোধী দলে থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে হাসিনা সংবিধান সংশোধন করেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থার অভাব ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ স্থানান্তরকে বাধা দেয় এবং তার কর্তৃত্ববাদকে আটকে রাখতে দেয়।
তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে জিয়াকে দুর্নীতির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, বিএনপিকে দুর্বল করেছে, তবে তার কর্তৃত্ববাদী প্রবৃত্তি বিরোধীদের দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি উদ্যোগের সাথে তার পিতার দেবীকরণের প্রচার করেছিলেন এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যেখানে সরকারের সমালোচনা সহ্য করা হয়নি।
বাকস্বাধীনতার কঠোরতম দম বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গণমাধ্যমে। আ.লীগের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনের সমালোচকরা হয়রানির শিকার হয়, যেমন ছাত্রাবাসে প্রবেশাধিকার বঞ্চিত। মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির কোটা নিয়ে বিক্ষোভ ছিল হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের প্রাথমিক সুবিধাভোগী আ.লীগকে সমর্থনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
হাসিনা তার নীতি থেকে ভিন্নমত পোষণকারী ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও বহিষ্কার করেছেন, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, যিনি তার বাবার সচিব ছিলেন এবং পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা গওহর রিজভীর মতো দীর্ঘকালীন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন। ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু বলেছে, হাসিনা "তার সেরা উপদেষ্টাদের থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।" শেষ পর্যন্ত, শুধুমাত্র তার বোন রেহানা যাকে হাসিনা বিশ্বাস করতে পারেন বলে মনে করেন।
"হ্যাঁ-পুরুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদী ছাত্রদের যুক্তি এবং উপলব্ধি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি," মুরায়ামা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন, যার কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই, তিনি সঙ্কটের পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় জেনারেল জামানের সাথে সহযোগিতা করেছিলেন। বিরোধী দল, নাগরিক সংগঠন এবং ছাত্র গোষ্ঠীর সাথে পরামর্শ করার পর, তিনি আ.লীগ-অধ্যুষিত সংসদ ভেঙে দেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন, যেটি দরিদ্র লোকদের ছোট ঋণ প্রদান করে, যে কাজটি তাকে নোবেল জিতেছিল। 2006 সালে শান্তি পুরস্কার।
পণ্ডিত, প্রাক্তন কূটনীতিক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী এবং ছাত্র প্রতিনিধি সহ 16 জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত, অস্থায়ী সরকারকে দেশে স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচকমণ্ডলী দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত, প্রায় 30% দুটি প্রধান দল, AL এবং BNP-এর প্রত্যেককে সমর্থন করে, বাকি 40% অসংলগ্ন বা ছোট দলগুলিকে সমর্থন করে। গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সম্ভবত রাজনৈতিক গতি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে যদি এটি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে বিএনপি আ.লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানোর জন্য প্রলুব্ধ হবে, যার ফলে প্রতিশোধের একটি চক্রের ভয়ঙ্কর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ এতদিন যে বাইনারি রাজনীতি চলছে তা মেনে নেয় না। এ কথা বললে, তৃতীয় কোনো পক্ষের উদ্ভব এবং অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের জন্য সত্যিকারের বিকল্প প্রদান করাও কঠিন হবে। সময়ের সময়কাল।"
"বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছে," ইউনূস তার শপথ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশিদের পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং জাতি পুনর্গঠনের জন্য চিহ্নিত স্থিতিস্থাপকতার চেতনাকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করার জন্য তার দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর জোর দিয়েছিলেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সামরিক বা স্বৈরাচারী শাসনমুক্ত একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হবে কিনা।
জাপান সহ শুধুমাত্র নেতৃস্থানীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোই নয় -- বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সাহায্য দাতা -- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ, বরং গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশ, যার মধ্যে স্বৈরাচারী এবং গণতান্ত্রিক উভয় দেশ রয়েছে, বিশ্বের অষ্টম উন্নয়নের উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে। - সবচেয়ে জনবহুল দেশ।
সেভেন সিস্টার্স এবং চিকেন নেক কি?
No commentsSaturday, August 24, 2024
August 24, 2024
সেভেন সিস্টার্স এবং চিকেন নেক: ভারতের উত্তর-পূর্বের ভূগোল ও রাজনীতির বিশ্লেষণ
ভূমিকা:
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যা পরিচিত "সেভেন সিস্টার্স" নামে, দেশটির এক অনন্য এবং ভিন্নতর অঞ্চল। এই অঞ্চলের ভূগোল, সংস্কৃতি, জাতিগত বৈচিত্র্য এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো "চিকেন নেক" বা "সিলিগুড়ি করিডর", যা মূল ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে। এই প্রতিবেদনে সেভেন সিস্টার্স ও চিকেন নেকের ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সেভেন সিস্টার্স: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য:
"সেভেন সিস্টার্স" বলতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বোঝানো হয়। এই রাজ্যগুলো হলো:
1. **অরুণাচল প্রদেশ**
2. **অসম**
3. **মণিপুর**
4. **মেঘালয়**
5. **মিজোরাম**
6. **নাগাল্যান্ড**
7. **ত্রিপুরা**
ঐতিহাসিক পটভূমি:
এই সাতটি রাজ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বহু প্রাচীন এবং বৈচিত্র্যময়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আগে, এই অঞ্চলটি বিভিন্ন রাজা-মহারাজা, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং স্থানীয় শাসকদের দ্বারা শাসিত ছিল। ব্রিটিশরা এই অঞ্চলে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর, এটি একটি একক প্রশাসনিক ইউনিটে রূপান্তরিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর, এই অঞ্চলটি পুনর্গঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে বর্তমান সাতটি রাজ্যে বিভক্ত হয়।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য:
সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং ভাষার উপস্থিতি দেখা যায়। এখানে প্রায় ২০০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর বাস, যারা বিভিন্ন ধরনের ভাষা, ধর্ম, এবং সংস্কৃতি পালন করে। এই অঞ্চলের মানুষরা মূলত তিব্বতি, বর্মিজ, এবং মঙ্গোলীয় জাতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের উৎসব, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের অন্যান্য অংশ থেকে আলাদা।
ভূগোল ও পরিবেশ:
এই সাতটি রাজ্য হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত, যেখানে রয়েছে পাহাড়, নদী, এবং ঘন অরণ্য। অসমের ব্রহ্মপুত্র নদী এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা চাষাবাদ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চল এবং মণিপুরের লোকটাক হ্রদও পর্যটন এবং পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
চিকেন নেক: ভারতের উত্তরের সংকীর্ণ করিডর:
ভৌগোলিক অবস্থান:
"চিকেন নেক" বা "সিলিগুড়ি করিডর" ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সিলিগুড়ি শহরের নিকটবর্তী একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২-২৫ কিলোমিটার, এবং এটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার একমাত্র পথ।
কৌশলগত গুরুত্ব:
চিকেন নেক ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করে না, বরং এটি ভুটান, নেপাল, এবং বাংলাদেশের সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত। এর ফলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামরিক চলাচল, এবং কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এর সংকীর্ণতা এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে, এই করিডরটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি দুর্বল জায়গা বলে বিবেচিত হয়। যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা এই করিডরের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সংযোগ বিঘ্নিত করতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা:
চিকেন নেকের ভূগোলের কারণে এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া, এই অঞ্চলে সড়ক ও রেলপথের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করে। তবে, ভারত সরকার এই করিডরের গুরুত্ব বুঝে বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যাতে এই অঞ্চলটি আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ হয়।
সেভেন সিস্টার্স এবং চিকেন নেক, উভয়ই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই অঞ্চলের বৈচিত্র্য এবং কৌশলগত গুরুত্ব ভারতের জাতীয় ঐক্য এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। সেভেন সিস্টার্সের জনগণ এবং তাঁদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ভারতের ধনসম্পদ, আর চিকেন নেক এই সম্পদের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। এই দুইটি অঞ্চলের সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি বজায় রাখা ভারতের জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টাঙ্গাইলে সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
No commentsSunday, August 4, 2024
August 04, 2024টাঙ্গাইলে সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ।
জানা গেছে, আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে জড়ো হন। এমন সময় শহরের বটতলা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং পরে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে শহরের আদালতপাড়া এলাকায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত হন। এরপর তারা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজপথ দখল করে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করতে যান এবং বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের রাজপথ বৈষম্যবিরোধীদের দখলে রয়েছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দীন বলেন, 'আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহবান জানানো হয়েছে। আমরা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি পরিবর্তন করেনি যুক্তরাষ্ট্র
No commentsTuesday, February 6, 2024
February 06, 2024বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তবে তাতে জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্র কী তার ভিসা নিষেধাজ্ঞার নীতির পাঠ চুকিয়ে ফেলেছে?-এমন প্রশ্নে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাফ জবাব, নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে মানে এই না যে সূর্য ডুবে গেছে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি।
সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে করা প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জানান দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ মুখপাত্র ভেদান্ত প্যাটেল।
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক হয়রানি প্রসঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই মুখপাত্র বলেন শ্রম আইনের অপব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্ব করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, " থ্রি সি ভিসা নিষেধাজ্ঞার নীতি অনুসারে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে খর্ব করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যে ঘোষণা দিয়েছিলো, সেই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান কী তা জানতে চাচ্ছি। বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ভিসা নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি, যা কারো অজানা নয়।"
জবাবে ভেদান্ত বলেন, "ভিসানীতি এবং তা পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন কোনো আপডেট আমার কাছে নেই। এই ভিসানীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভিসানীতির বিষয়ে আমি যা বলবো, বিষয়টি এমন নয় যে, নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে আর তাই সূর্য ডুবে গেছে-।”
মুশফিক তখন সুনির্দিষ্ট ভাবে জানতে চান, ভিসা নিষেধাজ্ঞা কী এখন প্রয়োগ হচ্ছে?
জবাবে ভেদান্ত বলেন, হ্যাঁ। ভিসানীতি প্রয়োগে কোনো পরিবর্তন হয়নি।"
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে অপর এক প্রশ্নে মুশফিক জানতে চান, "শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নতুন এক মামলায় চার্জশিট দিয়েছে সরকার। আদালতের মাধ্যমে ড. ইউনূসের দেশত্যাগের বিষয়ে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। ১২৫ জন নোবেল বিজয়ীসহ ২৪৩ জন বিশ্বনেতা, যার প্রফেসর ইউনূসের বিচারিক হয়রানির ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন । যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনেটর ডিক ডারবিনের নেতৃত্বে ১২ জন সর্বদলীয় সিনেটর ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কীভাবে দেখছে?"
জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেন, "আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যেভাবে আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ভীতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে শ্রম আইনের অপব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরাও সমভাবে উদ্বেগ জানিয়েছি।"
তিনি বলেন, "আমরা আশা করি এবং বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাবো তারা যেনো চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে।"
বাংলাদেশকে ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ পর্যালোচনার আহ্বান জাতিসংঘের
No commentsThursday, February 1, 2024
February 01, 2024বুধবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৪
জাতিসংঘের আহ্বান আমলে না নেয়া এবং উদ্বেগ প্রকাশ ছাড়া করণীয় প্রসঙ্গে ডোজারিক
‘জবাবদিহিতার আওতায় আনার উপযুক্ত মাধ্যম জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল’
অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনো দেশকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার সবচাইতে উপযুক্ত মাধ্যম হচ্ছে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের পর্যালোচনা। “জাতিসংঘের কোনো অধীনস্ত কর্মকর্তা কী বললো, তাতে কিছু যায় আসে না," ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দেওয়া এমন বক্তব্য এবং উদ্বেগ প্রকাশ ছাড়া জাতিসংঘের করণীয় প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার এ কথা বলেন মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক।
জাতিসংঘের সদরদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদ্রুপাত্মক এই মন্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "মানবাধিকারের মূলনীতি সমুহ মেনে চলতে জাতিসংঘ যে আহবান জানিয়েছে, তাতে কর্ণপাত করছে না বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠি । ক্ষমতাসীনদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাতিসংঘের অধীনস্ত কোন কর্মকর্তা কী বললো, তাতে কিছু যায় আসে না’। আমার প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘের নিছক উদ্বেগ প্রকাশ ছাড়া মানবাধিকার, ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার ভয়াবহভাবে লঙ্ঘনের জন্য একটি সদস্য রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতায় নেয়ার কোনো মেকানিজম আছে কিনা?”
জবাবে ডোজারিক বলেন, "আমার কাছে মনে হয় যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রকে এসব ক্ষেত্রে
জবাবদিহিতার আওতায় আনার সবচাইতে উপযুক্ত পদক্ষেপ হতে পারে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ।"
ভিসানীতিতে যুক্ত হবে গণমাধ্যমও: পিটার হাস
No commentsSunday, September 24, 2023
September 24, 2023
ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস জানিয়েছেন মার্কিন ভিসানীতিতে গণমাধ্যমও যুক্ত হবে ।
তিনি বলেন, সরকারি দল, বিরোধীদল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর আগামীতে গণমাধ্যমও এই ভিসানীতিতে যুক্ত হবে।
রোববার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪’র কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাদানকারী ব্যক্তি ও সহায়তাকারীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর মধ্যে রয়েছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ২৪ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন। সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে দেশটির অব্যাহত নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা দেখা করলেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে
No commentsWednesday, September 13, 2023
September 13, 2023নিজস্ব প্রতিবেদন : গণজমিন
![]() |
খালেদা জিয়া |
বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা আ স ম আবদুর রবও কারাবন্দি অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র : সের্গেই ল্যাভরভ
No commentsFriday, September 8, 2023
September 08, 2023নিজস্ব প্রতিবেদন : গণজমিন
![]() |
ছবি: সের্গেই ল্যাভরভ |
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম অংশীদার একটি দেশ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তথাকথিত ইন্দো-প্যাসিফিক আদর্শ দিয়ে চীন-রাশিয়াকে বন্ধুত্বহীন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ল্যাভরভ আর বলেন, রূপপুর পারমাণবিকের কাজ যথাসময়ে শেষ হবে এবং পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মুদ্রার মাধ্যমে রূপপুরের অর্থ পরিশোধের আলোচনা চলছে।
শুক্রবার, হাসিনা-মোদি বৈঠক
No commentsTuesday, September 5, 2023
September 05, 2023
![]() |
ছবি : সংগৃহীত |
দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আগামী শুক্রবার অংশগ্রহণ করবেন শেখ হাসিনা। সেদিন বিকেলেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী রোববার দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকা আসছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকার ফরাসি দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে তিনি এ সফরে আসছেন।
অন্যদিকে দিল্লি সম্মেলনে যাওয়ার আগে ৭-৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরের সূচি নির্ধারণের পর সরকার প্রধানের ঢাকা ও দিল্লির বৈঠকের সূচিরও পরিবর্তন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর এবং ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সূচি নির্ধারণে হিমশিম অবস্থা ঢাকা, দিল্লি, মস্কো ও প্যারিসের কর্মকর্তাদের। সম্ভাব্য সূচি অনুসারে, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎটি আগামী শুক্রবার সকালে হবে। এরপর সেদিন দুপুরের মধ্যে সরকারপ্রধান দিল্লি পৌঁছাবেন। ওইদিন বিকেলেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আর ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে গতকাল সোমবার জানানো হয়, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ভারতের দিল্লিতে যাবেন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। সেখান থেকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসবেন তিনি।
ঢাকায় অবস্থানের সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
পাশাপাশি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ১১ সেপ্টেম্বর তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাখোঁর সফরটি হবে দীর্ঘ তিন দশক পর ফ্রান্সের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এর আগে ১৯৯০ সালে ফ্রান্সের তখনকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ বাংলাদেশে এসেছিলেন। এদিকে ২০২১ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দ্বিপক্ষীয় সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ফ্রান্স দূতাবাস জানিয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্য দিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্স বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে প্যারিস এজেন্ডা ফর পিপলস অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেটের কাঠামোর সক্রিয় সমর্থক ঢাকা। শান্তিরক্ষা, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী বাংলাদেশের পাশে থাকবে ফ্রান্স সরকার।