Responsive Ad Slot




Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, মোট আসন ৫০৫

No comments

Tuesday, January 14, 2025

 


জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তাঁরা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি।

সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র ঠেকাতে বা এক ব্যক্তির হাতে যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে না যায়, সে জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু সুপারিশ করবে এই কমিশন। পাশাপাশি বিদ্যমান সংবিধানের মূলনীতিতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে শেষ মুহূর্তের কাজ করছে। আগামীকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সংস্কার কমিশনগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করবে। এ লক্ষ্যে তাদের প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ থাকবে, সেগুলো মূলত দুই ধরনের হবে। কিছু হবে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য, আর কিছু দীর্ঘমেয়াদি। তবে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এখন সংসদ নেই। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সংসদ গঠন না করা পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার করার সুযোগ নেই।

কমিশনগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি মাসেই এ আলোচনা শুরু হতে পারে। সংস্কার প্রস্তাব এবং এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য হলে সংলাপ থেকে একটি রূপরেখা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দ্বিকক্ষ সংসদ যেমন হবে:

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের পার্লামেন্ট তথা জাতীয় সংসদ এক কক্ষের। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে মোট আসন ৩৫০টি। ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সাধারণ নির্বাচনে পাওয়া আসনের অনুপাতে নারী আসনগুলো বণ্টন করা হয়।

সংস্কার কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের ৪০০টি আসনে নির্বাচন হবে বিদ্যমান পদ্ধতিতে। আর উচ্চকক্ষে মোট ১০৫ আসনের ৫টি থাকবে রাষ্ট্রপতির হাতে। তিনি এই পাঁচ আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেবেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির হাতে পাঁচটি আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

উচ্চকক্ষের বাকি ১০০টি আসনে নির্বাচন হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দলগুলো নির্বাচনে সারা দেশে যত ভোট পাবে তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে। দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাতে বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব রাখে, সেটাও উল্লেখ থাকবে।

বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন থেকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের কথা বলে আসছে। বিএনপি লিখিতভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনকে যে ৬২ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানেও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের কথা বলেছে। জাতীয় নাগরিক কমিটিও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মতবিনিময়েও অংশীজনদের অনেকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রস্তাব দেন।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও সংসদের নিম্নকক্ষে বিদ্যমান পদ্ধতিতে ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একনায়কতন্ত্র ঠেকানো অন্যতম লক্ষ্য:

সংবিধান সংস্কার কমিশন সূত্র জানায়, তাদের যেসব সুপারিশ থাকবে, তার অন্যতম লক্ষ্য হবে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা এবং সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র ঠেকানো। এ জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ না থাকে। এ লক্ষ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করা; একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কয়টি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া; প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা যাতে না হন, এমন বিধান; নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা; নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান; প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা; নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

এ ছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশও করা হচ্ছে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’—এই তিনটিকে সংবিধানের মূলনীতি করার সুপারিশ করবে কমিশন। এই তিনটির পাশাপাশি আরও দুটি মূলনীতিও যোগ করা হতে পারে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কমিশন আগামীকাল প্রতিবেদন জমা দেবে। এত দিন ক্ষমতা এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল। তাঁরা এমনভাবে সুপারিশ করছেন, যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এ জন্য নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের ব্যান্ডউইথ ট্রানজিটের প্রস্তাব, 'না' করে দিয়েছে বাংলাদেশ

No comments

Monday, December 2, 2024

 


বাংলাদেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের প্রস্তাব দেয় ভারত। এ প্রস্তাব 'না' করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)।

'আওয়ামী সরকারের আমলে দেশের দুই ইন্টারন্যাশনাল টেলিস্ট্রেরিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) কোম্পানি সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার এট হোম এবং ভারতের টেলিকম অপারেটর ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছিল। অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল।

বিটিআরসি বলছে, 'এ ট্রানজিটের কারণে আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দূর্বল হবে এবং ভারত এখানে শক্তিশালী হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া গুগল, আকামাই, অ্যামাজন, মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এজড পপ ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে হওয়ায় আইপিএলসি ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের টেলিকম অপারেটরগুলো সেভেন সিস্টার্সে সহজে ও গতিময় ইন্টারনেট দিতে পারবে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে এজড পপ ও ডেটা সেন্টার করে সেভেন সিস্টার্স, চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মিয়ানমারে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি-ইন্টারনেট সেবা দেয়ার সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে।

বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, 'আইটিসিগুলো এখন দেশের ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথের চাহিদা পূরণ করে আর বিএসসিপিএলসি করে ৪০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা থাকলেও তারা মাত্র ২ হাজার ৩০০ জিবিপিএস কাজে লাগাতে পেরেছে। এখন এই দুই প্রতিষ্ঠানকে ট্রানজিটের এই অনুমোদন দেয়া হলে বিএসসিপিএলসির বিপুল এই ব্যান্ডউইথ কাজে লাগানো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।'

সংঘর্ষে মোল্লা কলেজের তিন শিক্ষার্থী নি*হ*ত!

No comments

Monday, November 25, 2024

 


ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যাত্রাবাড়ীর ডেমরা এলাকা। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এর আগে মোল্লা কলেজের উদ্দেশে পদযাত্রা করেন সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী। লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল দিতে দিতে তাদের যেতে দেখা যায়। পরে মোল্লা কলেজের ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।

পরে ডিএমআরসির শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে পিছু হটেন সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোল্লা কলেজে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় কলেজের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে আসতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের হাতে।

এতে রাজধানীর ১৫টিরও বেশি কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সংঘর্ষে নিহত ৩ শিক্ষার্থীর নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ কলেজে নাকি কোনো হাসপাতালে, তা নিয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

কিবরিয়া হত্যা মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরের জামিন, মুক্তি কবে?

No comments

Thursday, September 12, 2024

 


সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। অসুস্থ দেখিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই আদেশ দেন।

banner

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নামে মামলা হয়।

‘সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর অসুস্থতা দেখিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

’থ্রি জিরো’ থিওরি

No comments

Friday, August 30, 2024

 

’থ্রি জিরো’  থিওরি

বর্তমান বিশ্বে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কার্বন নিঃসরণ, বেকারত্ব, এবং দারিদ্র্য—এই চারটি প্রধান সমস্যা মানব সভ্যতার অগ্রগতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত, এই সমস্যাগুলির মোকাবেলায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও কার্বন নিঃসরণ:

প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং কার্বন নিঃসরণের প্রভাব কমাতে ড. ইউনুস টেকসই কৃষি, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রসারে কাজ করতে পারেন। তিনি গ্রামীণ অঞ্চলে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেন, যা শুধুমাত্র কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনেও সহায়ক হবে। এছাড়া, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন।


বেকারত্ব:

বেকারত্বের সমস্যার সমাধানে ড. ইউনুসের ক্ষুদ্রঋণ মডেল অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করে তাদেরকে নতুন ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহিত করতে পারেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়া, ড. ইউনুসের নেতৃত্বে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।


দারিদ্র্য:

দারিদ্র্য দূরীকরণে ড. ইউনুস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্রঋণ মডেল এখনো দারিদ্র্য বিমোচনে একটি সফল উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি আরও বিস্তৃত আকারে সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে প্রসারিত করতে পারেন, যেখানে লাভের চেয়ে মানুষের সেবা প্রাধান্য পায়। ড. ইউনুসের সামাজিক ব্যবসার ধারণা গ্রামীণ এবং শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।


ড. ইউনুসের অভিজ্ঞতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কার্বন নিঃসরণ, বেকারত্ব, এবং দারিদ্র্যের মতো সামাজিক সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রতিষ্ঠিত মডেলগুলির মাধ্যমে তিনি এই সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারেন এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। ড. ইউনুসের উদ্যোগগুলির সফল বাস্তবায়ন সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে, যা একটি টেকসই এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়।

পানিদস্যু ভারত: বাংলাদেশ-ভারত জলবণ্টন সংকটের পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

No comments

Tuesday, August 27, 2024

 

পানিদস্যু ভারত: বাংলাদেশ-ভারত জলবণ্টন সংকটের পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি উল্লেখযোগ্য ও স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি ভাগাভাগি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত বেশ কিছু আন্তঃসীমান্ত নদী এবং জলসম্পদ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অনেক বছর ধরে নানা আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বাংলাদেশের কিছু মহলে ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার কারণে উদ্ভূত সংকটকে "পানিদস্যুতা" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-ভারত জলবণ্টন সংকট, এর ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি এবং এই সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে।


 আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পটভূমি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, এবং মেঘনা। এই নদীগুলোর পানির স্রোত এবং প্রবাহ দুই দেশের জীববৈচিত্র্য, কৃষি, শিল্প, এবং জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দুই দেশের মধ্যে প্রধানত গঙ্গা ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক রয়েছে।


 গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি

গঙ্গা নদী, যা বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারত দিয়ে প্রবাহিত হয়, এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলস্রোত। ১৯৯৬ সালে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে, গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী ভাগ করা হয়, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে। তবে, চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে একাধিক উদ্বেগ ও সমালোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পায় না, যা দেশের কৃষি ও পানির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।


 তিস্তা নদীর বিতর্ক

তিস্তা নদী নিয়ে জলবণ্টনের বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত সমস্যা। ভারত তিস্তা নদীর ওপর বেশ কিছু বাঁধ ও সেচ প্রকল্প নির্মাণ করেছে, যা বাংলাদেশের তিস্তার প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ দাবি করে যে, তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ প্রায় শূন্যে নেমে আসে, যার ফলে কৃষি, মৎস্য, এবং পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তিস্তা চুক্তি এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি, যা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।


পানিদস্যুতা: বাংলাদেশের অভিযোগ

বাংলাদেশের কিছু মহল, বিশেষ করে পরিবেশবিদ এবং পানি বিশেষজ্ঞরা, ভারতের জলবণ্টন নীতি ও ব্যবস্থাপনাকে "পানিদস্যুতা" বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। তাঁদের মতে, ভারত আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ না করে বাংলাদেশের ওপর জলসংকট সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে ভারতের পানি সরবরাহ সীমিত করার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানি সংকট দেখা দেয়, যা পরিবেশ ও কৃষির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।


 জলবণ্টনের কূটনীতি ও সমঝোতা

বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই নিজেদের জাতীয় স্বার্থে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি ভাগাভাগি করতে চাইছে। তবে এই বিষয়ে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই সমাধান এখনও অর্জিত হয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আঞ্চলিক বিবেচনার কারণে প্রগতি ধীর গতিতে চলছে।


 সমাধান ও সুপারিশ

১. আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিপালন: আন্তর্জাতিক জলবণ্টন আইনের আওতায় দুই দেশের মধ্যে পানির সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় দেশ একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধানে পৌঁছাতে পারে।


2. যৌথ নদী কমিশন শক্তিশালী করা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ নদী কমিশনকে আরও কার্যকর এবং শক্তিশালী করা দরকার, যাতে নতুন চুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে জটিলতা দূর করা সম্ভব হয়।


3. পরিবেশগত সমীক্ষা ও মূল্যায়ন: দুই দেশের উচিত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা, যা উভয় দেশের মানুষ এবং পরিবেশের জন্য সহায়ক হবে।


4. বিকল্প পানি উৎসের সন্ধান: বিকল্প পানি উৎসের সন্ধান করা এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি সংকটের সমাধান খোঁজা উচিত। 


পানি সংকটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই জলবণ্টন সংকট সমাধানে উভয় দেশের সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই একটি সমাধান না হলে, দুই দেশের জনগণের জীবনযাত্রা, কৃষি এবং পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি ভাগাভাগি এবং ব্যবস্থাপনায় সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

নিক্কেই এশিয়া -- বাংলাদেশের 'আয়রন লেডি' শেখ হাসিনার পতন!

No comments

Monday, August 26, 2024



নিক্কেই এশিয়া --
শেখ হাসিনা, যিনি বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশকে লোহার মুষ্টিতে শাসন করেছেন, 5 আগস্ট ক্রমবর্ধমান সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন, অবশেষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।


জনতা খালি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ভিড় করে, "নাগরিক বিপ্লবের" বিজয়ে আনন্দে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহিলা সরকার প্রধান হিসাবে হাসিনার 15 বছরের রাজত্বের আকস্মিক সমাপ্তি চিহ্নিত করে।

বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং রয়টার্স সহ অন্যান্য মিডিয়া আউটলেটের রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসিনার অফিসে থাকার শেষ 24 ঘন্টার সময়টা আবার দেখার মতো।

4 আগস্ট সন্ধ্যা 6 টায়, হাসিনা ক্রমবর্ধমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে একটি অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেন। সেই রাতে, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে একটি অনলাইন সভা আহ্বান করেন এবং তাদের নির্দেশ দেন যে কারফিউ অমান্য করে এবং রাস্তায় নেমে আসা বেসামরিক লোকদের উপর গুলি না চালানোর জন্য। সেনাপ্রধান তখন প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে রিপোর্ট করেন যে তার সৈন্যরা রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কার্যকর করতে পারেনি।

৫ আগস্ট সকাল নাগাদ হাসিনাকে কড়া পাহারায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে লুকিয়ে রাখা হয়। বিক্ষোভ দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হাসিনাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

হতাশাগ্রস্ত হয়ে, সিনিয়র কর্মকর্তা হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিরলস প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে রাজি করতে বলেছিলেন, কোন লাভ হয়নি। হাসিনার ছেলে, সজীব ওয়াজেদ জয়, একজন ব্যবসায়ী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সরকারের উপদেষ্টা, তাকে ফোন করেছিলেন এবং তিনি অবশেষে বিদায় নেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, তিনি দ্রুত ভারতে প্রবেশের জন্য অস্থায়ী অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন।

হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সহযোগীরা তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছিল। তারা অনুমান করেছিল যে ভিড় 45 মিনিটের মধ্যে পৌঁছাবে। তিনি এবং রেহানা সরকারী বাসভবনের কাছে একটি পুরানো বিমানবন্দরে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে, পদত্যাগ সম্পূর্ণ করতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের বাসভবনে অবতরণ করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর, জেনারেল জামান একটি টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ঘোষণা করেন যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন।

ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা, যিনি শেষ অবধি ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, তিনি একটি অস্থির জীবনযাপন করেছেন।

হাসিনা ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং 1971 সালে পাকিস্তান থেকে দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের একজন নায়ক, চার বছর পরে একটি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। হাসিনার মা ও ১০ বছর বয়সী ভাইসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যা করা হয়। হাসিনা ও রেহানা ওই সময় পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় গণহত্যা থেকে রক্ষা পান। তারা বহু বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন।

1981 সালে, হাসিনা দেশে ফিরে আসেন এবং তার পিতার প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ (AL) এর সভাপতি হন। 1990 সালে দেশের গণতন্ত্রীকরণের পর, তিনি 1991 সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ অপ্রত্যাশিতভাবে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কাছে হেরে যায়।

1996 সালের নির্বাচনে হাসিনা জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু দুটি প্রধান দল সরকারে বিকল্পধারা অব্যাহত রাখে। যাইহোক, 2009 সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর, হাসিনা ক্ষমতা সংহত করেন, বিরোধী দলকে দমন করেন এবং তার শাসনকে দীর্ঘায়িত করেন।

সরকারি চাকরির জন্য বিতর্কিত কোটা পদ্ধতির কারণে বাংলাদেশের "আয়রন লেডি" এর চমকপ্রদ পতন ঘটে। বাংলাদেশ, দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং অনুন্নত অঞ্চলের লোকদের জন্য সংরক্ষিত চাকরি; 30% দাগ 1971 সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে "মুক্তিযোদ্ধাদের" সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছে গিয়েছিল।

যদিও দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উপভোগ করেছে, পোশাক তৈরির মতো শ্রমঘন শিল্পের নেতৃত্বে, উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব ব্যাপক। কোটা ব্যবস্থাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।

ছয় বছর আগেও প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। হাসিনা রাজি হন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত সেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু চলতি বছরের ৫ জুন কোটা প্রথা বিলুপ্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট নীতিগত সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহাল করেন। আদালতের রায়ে আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়।

সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল, কিন্তু ছাত্ররা তাদের ক্ষোভকে সরকারের উপর কেন্দ্রীভূত করেছিল, বিশ্বাস করে যে এই রায় রাজনৈতিক চাপের ফলে হয়েছে। হাসিনা দাবি করেন যে বিএনপির মতো বিরোধী দল পর্দার আড়ালে ছাত্রদের কারসাজি করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্র্যাক ডাউন করার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হাসিনা বিক্ষোভকারীদের "রাজাকারদের পরিবার" বলে অভিহিত করেন, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সহযোগিতাকারী লোকদের উল্লেখ করে।

সহিংসতা চাকরি নিয়ে যে প্রতিবাদ ছিল তা সরকারকে উৎখাত করার আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে। ২১শে জুলাই সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরির বেশিরভাগ কোটা বাতিল করে দেয়, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। 16 অগাস্ট প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার পতনের পর ছাত্র বিক্ষোভ এবং পরবর্তী অশান্তিতে প্রায় 650 জন মারা গেছে।

হাসিনা বিক্ষোভে তার নৃশংস প্রতিক্রিয়ার জন্য মূল্য পরিশোধ করেছেন। এটি এমন একজন মহিলার জন্য একটি আশ্চর্যজনক পালা, যিনি 43 বছর আগে, স্বাধীনতার নায়কের কন্যা হিসাবে আনন্দের সাথে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এখন তিনি নিজেকে আবার প্রবাসে খুঁজে পান।

বড় প্রশ্ন হল হাসিনা, যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দিকে অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হয়েছিল, তিনি কেন একজন নির্মম স্বৈরাচারী শাসক হয়ে উঠলেন।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপিং ইকোনমিসের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা স্মরণ করে বলেন, "হাসিনা 1996 সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় আমাকে একজন কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিবিদ হিসাবে আঘাত করেননি।" তিনি উল্লেখ করেন যে হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুই বছর পর 2009 সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর কর্তৃত্ববাদের প্রতি ঝোঁক দেখাতে শুরু করেন।

বিরোধী দলে থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে হাসিনা সংবিধান সংশোধন করেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থার অভাব ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ স্থানান্তরকে বাধা দেয় এবং তার কর্তৃত্ববাদকে আটকে রাখতে দেয়।

তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে জিয়াকে দুর্নীতির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, বিএনপিকে দুর্বল করেছে, তবে তার কর্তৃত্ববাদী প্রবৃত্তি বিরোধীদের দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি উদ্যোগের সাথে তার পিতার দেবীকরণের প্রচার করেছিলেন এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যেখানে সরকারের সমালোচনা সহ্য করা হয়নি।

বাকস্বাধীনতার কঠোরতম দম বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গণমাধ্যমে। আ.লীগের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনের সমালোচকরা হয়রানির শিকার হয়, যেমন ছাত্রাবাসে প্রবেশাধিকার বঞ্চিত। মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির কোটা নিয়ে বিক্ষোভ ছিল হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের প্রাথমিক সুবিধাভোগী আ.লীগকে সমর্থনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

হাসিনা তার নীতি থেকে ভিন্নমত পোষণকারী ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও বহিষ্কার করেছেন, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, যিনি তার বাবার সচিব ছিলেন এবং পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা গওহর রিজভীর মতো দীর্ঘকালীন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন। ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু বলেছে, হাসিনা "তার সেরা উপদেষ্টাদের থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।" শেষ পর্যন্ত, শুধুমাত্র তার বোন রেহানা যাকে হাসিনা বিশ্বাস করতে পারেন বলে মনে করেন।

"হ্যাঁ-পুরুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদী ছাত্রদের যুক্তি এবং উপলব্ধি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি," মুরায়ামা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন, যার কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই, তিনি সঙ্কটের পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় জেনারেল জামানের সাথে সহযোগিতা করেছিলেন। বিরোধী দল, নাগরিক সংগঠন এবং ছাত্র গোষ্ঠীর সাথে পরামর্শ করার পর, তিনি আ.লীগ-অধ্যুষিত সংসদ ভেঙে দেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন, যেটি দরিদ্র লোকদের ছোট ঋণ প্রদান করে, যে কাজটি তাকে নোবেল জিতেছিল। 2006 সালে শান্তি পুরস্কার।

পণ্ডিত, প্রাক্তন কূটনীতিক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী এবং ছাত্র প্রতিনিধি সহ 16 জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত, অস্থায়ী সরকারকে দেশে স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচকমণ্ডলী দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত, প্রায় 30% দুটি প্রধান দল, AL এবং BNP-এর প্রত্যেককে সমর্থন করে, বাকি 40% অসংলগ্ন বা ছোট দলগুলিকে সমর্থন করে। গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সম্ভবত রাজনৈতিক গতি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে যদি এটি আবার ক্ষমতায় আসে, তাহলে বিএনপি আ.লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানোর জন্য প্রলুব্ধ হবে, যার ফলে প্রতিশোধের একটি চক্রের ভয়ঙ্কর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ এতদিন যে বাইনারি রাজনীতি চলছে তা মেনে নেয় না। এ কথা বললে, তৃতীয় কোনো পক্ষের উদ্ভব এবং অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের জন্য সত্যিকারের বিকল্প প্রদান করাও কঠিন হবে। সময়ের সময়কাল।"

"বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছে," ইউনূস তার শপথ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশিদের পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং জাতি পুনর্গঠনের জন্য চিহ্নিত স্থিতিস্থাপকতার চেতনাকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করার জন্য তার দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর জোর দিয়েছিলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সামরিক বা স্বৈরাচারী শাসনমুক্ত একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হবে কিনা।

জাপান সহ শুধুমাত্র নেতৃস্থানীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোই নয় -- বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সাহায্য দাতা -- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ, বরং গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশ, যার মধ্যে স্বৈরাচারী এবং গণতান্ত্রিক উভয় দেশ রয়েছে, বিশ্বের অষ্টম উন্নয়নের উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে। - সবচেয়ে জনবহুল দেশ।

টাঙ্গাইলে এমপি-মন্ত্রীসহ আ. লীগের ৫৬ নেতার বি'রু'দ্ধে মারুফ হত্যা মা'ম'লা

No comments

Tuesday, August 20, 2024

 

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টাঙ্গাইল শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মারুফ নিহতের ঘটনায় টাঙ্গাইলে এমপি-মন্ত্রীসহ আ. লীগের ৫৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহত মারুফের মা মোরশেদা বেগম বাদী হয়ে গত রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্কুলছাত্র মারুফ হত্যা মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য খান আহম্মেদ শুভ ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয়।

এছাড়া - গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান ইমান খান সোহেল হাজারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, পৌর মেয়র সিরাজুল হক খান আলমগীরকে আসামি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ, সাবেক পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

সালমান এফ রহমান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গ্রেফতার

No comments

Tuesday, August 13, 2024




  বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকার নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ও মন্ত্রীরা গা ঢাকা দেন।

আওয়ামী লীঘ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেয়।

টাঙ্গাইলে সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

No comments

Sunday, August 4, 2024



টাঙ্গাইলে সংর্ঘষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ।

জানা গেছে, আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে জড়ো হন। এমন সময় শহরের বটতলা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং পরে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে শহরের আদালতপাড়া এলাকায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।


এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত হন। এরপর তারা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজপথ দখল করে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করতে যান এবং বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের রাজপথ বৈষম্যবিরোধীদের দখলে রয়েছে।

এমন অবস্থায় পুরো শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং শহরের ভেতরে ছোট যানবাহন সীমিত আকারে চলছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দীন বলেন, 'আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহবান জানানো হয়েছে। আমরা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে দীর্ঘ ১৫ কিমি যানজট

No comments

Friday, June 14, 2024

 



(১৪ জুন) শুক্রবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলী এলাকায় মালবাহী এক‌টি ট্রাক উল্টে যায়।বন্ধ হয়ে‌ যায় প‌রিবহন চলাচল।


পুংলী থেকে টাঙ্গাইলের আশিকপুর বাইপাস পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃ‌ষ্টি হয়। ফলে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ভোর থেকে যানজটের সৃষ্টি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।


রাফসান দ্যা ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

No comments

Thursday, June 13, 2024

 



রাফসান দ্য ছোট ভাই’খ্যাত জনপ্রিয় ইউটিউবার ইফতেখার রাফসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক আলাউল আকবর।

 ‘ব্লু ’ পানীয়টি অনুমোদনহীন হওয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে আবেদন করেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন। আবেদনে তিনি বলেন, ‘ব্লু’-এর কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি ওষুধ প্রশাসনও জানে না এসব ওষুধ না পানীয়।

 গত ২৪ এপ্রিল ‘ব্লু ’ ড্রিংকসের অননুমোদিত একটি কারখানায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভিত্তিতে কুমিল্লা বিসিক এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালান জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে নিবন্ধন ব্যতীত ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক পণ্য প্রস্তুত, মোড়কজাত ও বাজারজাত করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নতুন সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওয়াকার-উজ-জামান

No comments

Tuesday, June 11, 2024

 



নিজস্ব প্রতিবেদক: 

নতুন সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। মঙ্গলবার (১১ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে আগামী ২৩ জুন বিকাল হতে আগামী ৩ বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে ১৩তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার্স অব ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস) সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যস্থ কিংস কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে মাস্টার্স অব আর্টস ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রী অর্জন করেন।



সাবেক জেনারেল আজিজ ও তার পরিবারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

No comments

Tuesday, May 21, 2024

  নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল  আজিজ আহমেদ



দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত  তথ্যে জানানো হয়।

দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে সাবেক জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে, পূর্বে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ফরেন অপারেশন অ্যান্ড রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্টের ৭০৩১ (সি) ধারার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আজিজ আহমেদ তার ভাইকে বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি এড়াতে সহযোগিতা করেন। এটা করতে গিয়ে তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন।

 এছাড়া অন্যায্যভাবে সামরিক খাতে কন্ট্রাক্ট পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য সরকারি নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন।

 আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনরায় নিশ্চিত করা হলো বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


মির্জাপুরে এক বাগানের শতাধিক গাছ কেটে ফেললো দুর্বৃত্তরা

No comments

Sunday, April 21, 2024

  নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা



ছবিঃ দুর্বৃত্তদের কেটে ফেলা গাছ 

গণজমিন (টাংগাইল) প্রতিনিধি

৫ টা ৩৯ মিনিট, ২০ এপ্রিল ২০২৪

টাঙ্গাইল জেলার, মির্জাপুর উপজেলার, ৫নং বানাইল ইউনিয়নের, শৈলজানা গ্রামের  একটি বাগানের প্রায় শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বাগানের মালিক মোঃ জাকির হোসেন রানা জানান তাদের বাড়ি সংলগ্ন প্রায় ৩০ শতাংশ জমির উপর আম, লিচু, কলা গাছ সহ নানারকম কাঠ গাছ আছে। 

শুক্রবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানের আম, লিচু, কলা ও কাঠ গাছসহ প্রায় শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে।

বাগানের মালিক মোঃ জাকির হোসেন রানা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

**অমানবিক কার্যের প্রতিবাদ**

দূরবিত্তরা জমিতে অমানবিকভাবে গাছ ধ্বংস করে প্রাকৃতিক সম্পদের অবনমন করেছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং জীবনযোগ্য প্রাণীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

**দূরবিত্তদের শাস্তি**

এই ধরনের অমানবিক কার্যকে সাধারণ শাস্তির চেয়ে কঠিন শাস্তি প্রয়োজন। দূরবিত্তদের জন্য একটি শাস্তিপ্রণালী তৈরি করা উচিত যাতে এই ধরনের অমানবিক কার্য প্রতিরোধ করা যায়।

**সুপারিশ**

১. দূরবিত্তদের বিরুদ্ধে সক্ষম সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া।

২. অমানবিক কার্যে সহানুভূতি প্রকাশ করে সাধারণ জনগণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৩. পরিস্থিতির সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য সমাজের সকলেই একত্রিত হওয়া এবং প্রয়াস করা।

আমরা কামনা করি যে সকল প্রতিষ্ঠান, সরকার, এবং সাধারণ জনগণ এই ঘটনার প্রতি সচেতন হয়ে উঠবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি তাদের প্রতিবেদন ও প্রয়াস বৃদ্ধি পেতে সহযোগিতা করবেন।

'ভারতীয় পণ্য বয়কট' প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে - মুখপাত্র মিলার

No comments

Tuesday, March 12, 2024

 


‘ড. ইউনূস প্রসঙ্গে পিটার হাসের মন্তব্য যথাযথ’

পণ্য বয়কট প্রচারণা নজরে এসেছে, ক্রেতার পছন্দের বিষয়ে মন্তব্য নয় - মুখপাত্র মিলার


বাংলাদেশে চলমান 'ভারতীয় পণ্য বয়কট' প্রচারণা  যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে উল্লেখ করে

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ক্রেতাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করবেনা।


সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে চলমান 'ভারতীয় পণ্য বয়কট' কর্মসূচি প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।


নোবেলজয়ী ড. ইউনূসকে সমর্থন জানিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবি যে দাবি জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মিলার বলেন, সোজা কথায় বলতে গেলে, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ড. ইউনূস প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন সেটা তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসাবে নিজ দেশের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।


ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করার সময় মিলারকে পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা জানান স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী।


রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে উদ্দেশ্য করে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবির মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুশফিক জানতে চান, "ম্যাথিউ, আপনাকে পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা। আজ রমজানের প্রথম দিন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন করে কথা বলায় বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আপনি জানেন যে, সরকার রাজনৈতিক কারণে ইউনূসকে হয়রানি করছে এবং সরকারের এরকম আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্রমাগত প্রতিবাদ জানিয়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?"


জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, "আপনি যে মন্তব্যের কথা বলেছেন (পিটার হাসের মন্তব্য) এবং প্রশ্ন করেছেন সে বিষয়ে, অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে এর আগেও কথা বলেছি। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশে প্রয়োগ করা আইনের মাধ্যমে হয়রানি, হুমকি  এবং ভীতি প্রদর্শনে এসব আইনের অপব্যবহার হতে পারে। সোজা কথায় বলতে গেলে, পিটার হাস ড. ইউনূস প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন সেটা তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসাবে নিজ দেশের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন।"


বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় 'ইন্ডিয়া আউট' কর্মসূচি তীব্রতর হবার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মুশফিক জানতে চান, "গণমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে 'ইন্ডিয়া আউট' কর্মসূচি ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। বাংলাদেশে জালিয়াতির নির্বাচনের পর দেশটির জনগণ ভারতীয় পণ্য বয়কটের প্রচারণা শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ ভারতের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ  শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে অদৃশ্যভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?"


জবাবে মিলার বলেন, এমন কর্মসূচির প্রচারণার বিষয়টি আমাদের নজরে

এসেছে। একজন ক্রেতা কী সিদ্ধান্ত নিবেন, সেটা নিয়ে স্পষ্টতই আমি কোনো মন্তব্য করবোনা, সেটা বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে । বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়ের সঙ্গে আমাদের

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মূল্যায়ন করি। একটি মুক্ত, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।"


আইনের অপব্যবহার বিনিয়োগে বাধা হতে পারেঃ মিলারের সতর্কতা

No comments

Wednesday, February 14, 2024

 গণজমিন অনলাইন ডেস্ক


আইনের অপব্যবহার করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন সরকারের নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংএ গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান সমুহ দখলের প্রতিক্রিয়ায় 

এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। 

ব্রিফিংএ অংশ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান-গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির একটি দল নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অফিস দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এবং আপনি জানেন যে, বাংলাদেশের শাসক দল ইতোমধ্যে একতরফা সংসদ, বিচার বিভাগ, মিডিয়া, দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আর এখন গ্রামীণের মতো সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী?

জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন,  ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক ফৌজদারি মামলার বিষয়ে আমরা লক্ষ্য করছি যে, শ্রম মামলাটি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বিচার করা হয়েছে। অতিরিক্ত মামলার চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে। আমরা অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সাথে উদ্বিগ্ন  যে এই মামলাগুলি ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভীতি প্রদশর্নের জন্য বাংলাদেশের শ্রম আইনের অপব্যবহার হতে পারে। আমরা উদ্বিগ্ন যে, শ্রম এবং দুর্নীতিবিরোধী আইনের এই  অপব্যবহার আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করার সাথে সাথে ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমরা বাংলাদেশ ড.  ইউনূসের জন্য একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। .

প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে অবস্থিত গ্রামীণ টেলিকম ভবনে দখল চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে একাধিক গণমাধ্যম। খবরে বলা হয়,  সোমবার বিকালে অন্তত ২০ জনের একটি দল এই দখল চেষ্টা চালায় বলে গ্রামীণ কল্যাণের কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে কারা এই দখল চেষ্টা চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। গ্রামীণ কল্যাণ হলো শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত একটি সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান। ওই ভবনে গ্রামীণ কল্যাণের কার্যালয় অবস্থিত। এ ছাড়া ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত আরও কয়েকটি সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। গ্রামীণ কল্যাণের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বাইরে থেকে কিছু লোক দখল চেষ্টা চালিয়েছে। তারা দাবি করছে, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ শক্তি, গ্রামীণ টেলিকম, এগুলো সব গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানাধীন। এজন্য তারা দখল করতে এসেছে।



বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে পিছুটানের অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্র।

No comments

Wednesday, January 31, 2024

 মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৪


বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে পিছুটানের অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

নির্বাচনকে কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু মনে করিনাঃ স্টেট ডিপার্টমেন্ট মুখপাত্র মিলার 

বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে ভারতের প্রভাবে   যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে - এমন অভিযোগ মানতে নারাজ স্টেট ডিপার্টমেন্টর মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। পাশাপাশি বিগত নির্বাচন কোনো ভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু  হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে করা একাধিক প্রশ্নের জবাবে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, কানাডার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়া এবং চীনের পাশাপশি ভারতের নাম তদন্তে উঠে এসেছে মর্মে  সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।  বাংলাদেশেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ধরে রাখতে  ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন  পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসম্মুখে বলেছেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতোই এবারও তাদের নির্বাচনী বিজয়ে পাশে ছিলো ভারত। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশের নীতি থেকে পিছু হটেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী ?"

জবাবে মিলার বলেন, "কানাডার তদন্তের বিষয়ে আমার আসলে কিছু বলার নেই। এ বিষয়ে কানাডা তথ্য দিতে পারবে। আমি যে বিষয়ে কথা বলবো সেটা হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র। এর আগেও এই ইস্যুতে অনেকবার কথা বলেছি। বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা যেনো প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতিতে এগুলোকে প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য গণতান্ত্রিক নীতিসমূহের যেনো বিকাশ হয় সে উদ্দেশ্যে সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।"

অপর এক প্রশ্নে এই প্রতিবেদক জানতে চান, "জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেবার আহ্বান জানিয়েছে। ৭ জানুয়ারির কারচুপির নির্বাচনে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন সরকার বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ

বিরোধীদলের ২৫ হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্ব করার দায়ে কর্তৃত্ববাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কেনোনা নির্বাচনের আগে আপনার ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।"

জবাবে মিলার বলেন, "আপনি এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন শুনেছেন। এই নির্বাচনকে আমরা কোনো ভাবেই অবাধ এবং সুষ্ঠু মনে করি না। নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের বিষয়েও আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমি দুইটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো। প্রথমত, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জন্য সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদলের সদস্য, গণমাধ্যম কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।"



ভিসানীতিতে যুক্ত হবে গণমাধ্যমও: পিটার হাস

No comments

Sunday, September 24, 2023

 


ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস জানিয়েছেন মার্কিন ভিসানীতিতে গণমাধ্যমও যুক্ত হবে ।

তিনি বলেন, সরকারি দল, বিরোধীদল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর আগামীতে গণমাধ্যমও এই ভিসানীতিতে যুক্ত হবে।

রোববার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪’র কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাদানকারী ব্যক্তি ও সহায়তাকারীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যে রয়েছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, চলতি বছরের ২৪ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেন। সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে দেশটির অব্যাহত নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

রাশিয়ার মুখে হস্তক্ষেপের কথা মানায় না

No comments

Wednesday, September 13, 2023

 নিজস্ব প্রতিবেদন : গণজমিন

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার

ঢাকায় দেয়া রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যারা প্রতিবেশি দেশকে আক্রমণ করে নারী-শিশুসহ অসহায় মানুষদের নির্বিচারে হামলা করছে, সেই রাশিয়ার মুখে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ নিয়ে কথা বলাটা মানায় না।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে লাভরভের ঢাকা সফরকালে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এমন মন্তব্য করেন মিলার।

ঢাকায় দেয়া রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যের জবাবে মিলার বলেন, “রাশিয়া প্রসঙ্গে আমি বলবো, এটি হলো এমন একটি দেশ, যে দেশটি তার পাশ্ববর্তী দুই দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে। যারা অন্য একটি দেশে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ বাধিয়ে স্কুল, হাসাপাতাল এবং বাসাবাড়িতে নিয়মিত বোমা হামলা চালাচ্ছে। তাদের মুখে অন্য একটি দেশ নির্দেশেনা দিচ্ছে- এমন সমালোচনা মানায় না।

সত্যি কথা বলতে, এটা সের্গেই লাভরভের করা সুচিন্তিত মন্তব্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে আমি বলবো, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের লক্ষ্য হচ্ছে একটি অবাধ, মুক্ত, সমৃদ্ধ, নিবিড় এবং নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলা। এটাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান।”

ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোর্টকে ব্যবহার করে কারাদন্ড প্রদান এবং নির্বাসিত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের মালামাল জব্দ করার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, আমি প্রায়শই বলে থাকি- সাংবাদিকদের অবশ্যই কোনো ধরনের ভীতি, হয়রানি ও সহিংসতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। বাংলাদেশের যেসব সাংবাদিক সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের রাষ্ট্রীয় এবং নির্যাতনমূলক আচরণের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

Don't Miss
© all rights reserved
made with গণজমিন মিডিয়া লিমিটেড ২০২৪